শনিবার ২১, মার্চ ২০২৬

শনিবার ২১, মার্চ ২০২৬ -- : -- --

নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৫ এএম

43

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শুধু জুলাই জাতীয় সনদ নয়, নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করা প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। জনগণের ভোটে যে ম্যান্ডেট পাওয়া গেছে, তার ভিত্তিতেই সরকার প্রতিশ্রুত বিষয়গুলো বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।

মঙ্গলবার ঢাকায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি শব্দ ও অক্ষর সরকার গুরুত্বের সঙ্গে ধারণ করে। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার দায়বদ্ধ। শুধু জুলাই সনদ নয়, নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লিখিত অন্যান্য বিষয়ও বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জয়নুল আবেদীন। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের মহাসচিব ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাহবুব উদ্দিন খোকন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল এবং এতে সরকার শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, সনদটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে কিছু রাজনৈতিক দল নানা কারণে শুরুতে এতে স্বাক্ষর করেনি, পরে তাদের মধ্য থেকে কয়েকটি দল সনদে স্বাক্ষর করেছে।

তিনি আরও বলেন, সনদে স্বাক্ষরের সময় কিছু ক্ষেত্রে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ যেসব দফায় কোনো রাজনৈতিক দল আপত্তি জানিয়েছে, তারা যদি সেই বিষয়গুলো নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করে জনগণের ম্যান্ডেট পায়, তাহলে সেগুলো বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, যারা শুরুতে জুলাই সনদের সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করেছে, তাদের কেউ কেউ নির্বাচনের পরে সুবিধা বুঝে তাতে স্বাক্ষর করেছে। তার মতে, সনদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা বা শর্ত যুক্ত করার সুযোগ নেই; এতে স্বাক্ষর করতে হলে সরাসরি সম্মতি দিতে হবে, আর আপত্তি থাকলে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

সংবিধান প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার সবসময় সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সংবিধান অনুযায়ীই রাষ্ট্র পরিচালনার চেষ্টা করছে। ভবিষ্যতেও একইভাবে সংবিধান মেনেই সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, গণভোটের ফলাফলকে কার্যকর করতে হলে আগে জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করতে হবে। সংসদে আলোচনা ও আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব। এরপর প্রয়োজনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথের বিষয়টি নির্ধারণ করা হবে এবং তা তৃতীয় তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সম্প্রতি যেভাবে কিছু ব্যক্তিকে শপথ পড়ানো হয়েছে তা সংবিধানসম্মত হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতের নজর দেওয়া প্রয়োজন। কারণ বিচারকদের প্রধান দায়িত্বই হলো সংবিধান রক্ষা করা।

তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এসব অধ্যাদেশ উপস্থাপন করতে হবে। এরপর সংসদই সিদ্ধান্ত নেবে কোন অধ্যাদেশ অনুমোদিত হবে, কোনটি সংশোধনসহ গৃহীত হবে এবং কোনটি বাতিল বা ল্যাপস হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদ রাষ্ট্রের সার্বভৌম প্রতিষ্ঠানের প্রতীক। সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং তাদের ভোট সাংবিধানিক গুরুত্ব বহন করে। তিনি উল্লেখ করেন, আইনের ভিত্তিতে যে কোনো গণভোটের গুরুত্ব থাকলেও সাংবিধানিক ভোটের অবস্থান সর্বোচ্চ।

 

Link copied!