প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০০ এএম
22
বৃহস্পতিবার ২৩, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় ইসমত আরা (২৩) নামে ছয় মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর থেকে গৃহবধূর স্বামী নুর ইসলাম আত্মগোপন করায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) উপজেলার গুনারীতলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ইতোমধ্যে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত ইসমত আরা মাদারগঞ্জ পৌর শহরের বালিজুড়ি নামাপাড়া এলাকার ইউনুস আলীর মেয়ে এবং সাবেক প্রবাসী নুর ইসলামের স্ত্রী।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এটি কোনো সাধারণ মৃত্যু বা আত্মহত্যা নয়, বরং দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। স্বজনদের দাবি, প্রায় আট বছর আগে বিয়ে হওয়ার পর থেকেই নুর ইসলাম ইসমতকে বিভিন্ন সময়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অন্তঃসত্ত্বা ইসমত আরা বেশ কিছুদিন ধরে পেটের ব্যথায় ভুগছিলেন। চিকিৎসার জন্য স্বামীর কাছে বারবার অনুরোধ জানালেও তিনি কোনো ভ্রুক্ষেপ করেননি। নিহতের স্বজনদের প্রাথমিক ধারণা, স্বামীর অবহেলা ও নির্যাতনের অভিমানে বুধবার সকালে ইসমত ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।
ঘটনার পর ইসমতকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে নুর ইসলাম ও তার স্বজনরা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ লুকানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা চিকিৎসকদের কাছে দাবি করেন, গৃহবধূ পেটের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কিন্তু পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানানোর প্রস্তুতি নিলে মরদেহ নিয়ে দ্রুত সটকে পড়েন স্বামী ও তার স্বজনরা।
মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেজাবীন রশিদ তিন্নী জানিয়েছেন, নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এটি ফাঁসিতে ঝুলে মৃত্যু নাকি অন্য কোনোভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে, তা ময়নাতদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় হাসপাতাল থেকে পুলিশকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হয়।
সংবাদ পেয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। মাদারগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা ও মামলা দায়ের করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।