বৃহস্পতিবার ২৩, এপ্রিল ২০২৬

বৃহস্পতিবার ২৩, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের কর্মবিরতি, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

21

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকদের পদোন্নতিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষকেরা। এতে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ জন শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে থাকায় কর্মসূচির ঘোষণা দেন শিক্ষকেরা। তাদের এ দাবির পক্ষে ১০২ জন শিক্ষক সংহতি প্রকাশ করেন।

শিক্ষকরা বলেন, মঙ্গলবারের (২১ এপ্রিল) কর্মসূচির পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পদোন্নতির ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ না নিলে আগামীকাল বুধবার পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করা হবে। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে একাডেমিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষাও বন্ধ রয়েছে।

ববিতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান শিক্ষক সংকট ও পদোন্নতির কার্যক্রম দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান করে শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান রাখার দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৩৫ ও ৩৭ ধারায় উল্লিখিত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্য উপাচার্যের অনুমোদিত সংবিধি ও বিধি থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে এমন অনুমোদিত কাঠামো বর্তমানে বিদ্যমান নেই।

ফলে শুধু পদোন্নতি নয় বরং ভর্তি ও পরীক্ষা কার্যক্রম সহ সবকিছুরই আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষকেরা ঘোষণা দিয়েছেন, সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রথমে কর্মবিরতি এবং পরবর্তীতে শাটডাউন কর্মসূচী গ্রহন করা হবে। 

পদোন্নতি প্রত্যাশী শিক্ষকদের মধ্যে আছেন, ২৪ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৩০ জন সহকারী অধ্যাপক এবং ৬ জন প্রভাষক।

তাদের ভাষ্য, বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব পাওয়ার পর গত বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে পদোন্নতি বোর্ড গঠন করেন। এরপর দুটি সিন্ডিকেট সভা হলেও উপাচার্য নিয়োগ বোর্ড অনুমোদনের প্রস্তাব সিন্ডিকেটে তোলা হয় নি। সর্বশেষ ৩১ মার্চ সিন্ডিকেট সভা হয়। 

শিক্ষার্থীরা বলেন, একাডেমিক কার্যক্রম ও পরীক্ষা যাতে বিঘ্নিত  না হয়, এ জন্য শিক্ষকদের দাবির প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহানুভতিশীল হওয়া প্রয়োজন। তা না হলে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়বে।

উপাচার্য মো. তৌফিক আলম বিশ্ববিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি। তবে মুঠো ফোনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষকরা ২০১৫ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অধীন পদোন্নতি চাইছেন। কিন্তু তাতে ইউজিসির আপত্তি আছে। তাই পুরোনো নিয়মে শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় অভিন্ন নীতিমালা গ্রহণ করেছে। যে তিনটি করেনি, এর মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আছে। এ জন্য আমি শিক্ষকদের অনুরোধ করব, যাতে ক্লাস-পরীক্ষা বিঘ্নিত হয়, সে ধরনের কর্মসূচি থেকে সরে এসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমরা একটি নতুন সংবিধি প্রণয়ন করি। এতে দ্রুত তারা পদোন্নতি পাবেন।

প্রসঙ্গত, গত রোববার সন্ধ্যায় একই দাবিতে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জামাল উদ্দিন। ২৩ ঘণ্টা পর সোমবার বিকেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

Link copied!